অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে

এক মাসের মধ্যে গত মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম নেমে এসেছিল সর্বনিম্নে। সেখান থেকে কিছুটা সংশোধন হয়ে গতকাল সামান্য পরিমাণে দাম বেড়েছে।

এক মাসের মধ্যে গত মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম নেমে এসেছিল সর্বনিম্নে। সেখান থেকে কিছুটা সংশোধন হয়ে গতকাল সামান্য পরিমাণে দাম বেড়েছে। এজন্য বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রে মজুদ হ্রাসকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পণ্যটির বাজার নিয়ে এখনো বেশ সতর্ক অবস্থান ধরে রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছেন তারা। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ১৩ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ ডলার ৬১ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলে ১৯ সেন্ট বেড়ে পৌঁছেছে ৫৮ ডলার ১৪ সেন্টে। এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি কমেছিল ৮৯ সেন্ট।

আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কমেছে। তবে একই সময়ে পেট্রল ও অন্যান্য জ্বালানির মজুদ বেড়েছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত শান্তি কাঠামোর আলোচনায় এখন মাত্র কয়েকটি বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

আলোচনায় সমাধান এলে রাশিয়ার জ্বালানি রফতানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ দ্রুত বাড়তে পারে।

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়ন হলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলারে নেমে আসতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই বিনিয়োগকারীরা এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। আলোচনা এগোলে জ্বালানি তেলের দামে আরো পতনের ঝুঁকি রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেন সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, জেলেনস্কি কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত বিষয়ে ইউক্রেনের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারেন।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কড়াকড়ি হওয়ায় রাশিয়ার জ্বালানি তেল রফতানি এরই মধ্যে কমেছে। ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক সপ্তাহে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে ভারত ডিসেম্বরে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নামিয়ে আনতে পারে।

এদিকে জ্বালানি রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস রোববারের বৈঠকে জ্বালানি তেলের উত্তোলন অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। সংগঠনের তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বৈঠকে উত্তোলন কোটার পরিবর্তে সদস্য দেশগুলোর প্রকৃত উত্তোলন সক্ষমতা বা ‘বেজলাইন’ নির্ধারণে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। এ সক্ষমতা ২০২৭ সালের উত্তোলন লক্ষ্য ঠিক করতে কাজে লাগবে।

নাইজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি কোটা চেয়ে আসছে। তবে দেশটির প্রকৃত সক্ষমতা অপর্যাপ্ত হওয়ায় সমন্বয় করা কঠিন হচ্ছে। বিপরীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনো অতিরিক্ত উত্তোলন সক্ষমতা ধরে রেখেছে। গত বছর সক্ষমতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে অ্যাঙ্গোলা ওপেক প্লাস থেকে বের হয়ে যায়।

আরও